1. mr.milonctg@gmail.com : BD CLICK :
November 27, 2021, 8:07 pm
অনিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল বন্ধ : কী আছে নীতিমালায়

আদালতের নির্দেশে অনিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু করা হলেও ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় তা দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মুস্তাফা জব্বার গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মঙ্গলবার শেষ দিন ছিল অনিবন্ধিত নিউজ পোর্টালগুলো বন্ধের জন্য। তবে বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর বেশ কিছু ত্রুটি থাকায় আপাতত নিউজপোর্টাল বন্ধের প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছে।

বিটিআরসি মঙ্গলবার সকালে হাইকোর্টকে জানায়, তথ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে সব নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টালের তালিকা চাওয়া হয়েছে; কিন্তু এখনও তা দেওয়া হয়নি। তালিকা হাতে পেলেই অনিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আদালত এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন।

তথ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অপসাংবাদিকতা রোধে অনলাইন পত্রিকার নিবন্ধন কার্যক্রম গত বছর থেকে শুরু করেছে সরকার। অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা অনুযায়ী নতুন কোনো অনলাইন পত্রিকা চালু করতে হলে সরকারের কাছ থেকে নিবন্ধন নিতে হবে। জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালায় বলা হয়েছে বাংলাদেশের ভূখণ্ড থেকে প্রকাশিত ইন্টারনেটভিত্তিক রেডিও, টেলিভিশন, সংবাদপত্র এবং এ জাতীয় অন্য কিছু অনলাইন গণমাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হবে। এ নীতিমালায় অনলাইন গণমাধ্যম পরিচালনার জন্য একটি গাইডলাইন থাকবে এবং এ জন্য নিবন্ধন লাগবে। সম্প্রচার কমিশন এ নিবন্ধন দেবে। অনলাইন গণমাধ্যম নিবন্ধনের জন্য কমিশনের কাছে একটি নির্ধারিত ফি দিতে হবে। তবে এখনও সম্প্রচার কমিশন গঠন না হওয়ায় নিউজ পোর্টাল নিবন্ধন কার্যক্রমের কর্তৃপক্ষ হিসেবে তথ্য অধিদফতরকে দায়িত্ব দিয়েছে তথ্য মন্ত্রণালয়।

কমিশন গঠন না হওয়া পর্যন্ত পিআইডি এ কার্যক্রম পরিচালনা করবে। একই সঙ্গে অনলাইন নিউজ পোর্টালের নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার টাকা। গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে দুটি আদেশ জারি করা হয়। কর্তৃপক্ষ নির্ধারণের অফিস আদেশে বলা হয়েছে, ‘জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা, ২০১৭ (সংশোধিত ২০২০)’ অনুযায়ী কমিশন গঠন না হওয়া পর্যন্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল নিবন্ধনের কার্যক্রম গ্রহণের জন্য তথ্য অধিদফতরকে ক্ষমতা দেওয়া হলো।

নীতিমালায় অনলাইন গণমাধ্যম নিবন্ধন সংক্রান্ত বিষয়ে বলা হয়েছে, সব অনলাইন গণমাধ্যমকে নিবন্ধিত হতে হবে। বিদ্যমান অনলাইন গণমাধ্যমগুলো শর্ত পূরণ করে নিবন্ধিত হবে। অনলাইন গণমাধ্যম সংক্রান্ত আইন না হওয়া পর্যন্ত মন্ত্রণালয় এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে। তবে এ দায়িত্ব শিগগিরই কমিশনের ওপর ন্যস্ত হবে। নিবন্ধন পাওয়া সব অনলাইন গণমাধ্যম সরকারের কাছে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গণ্য হবে এবং শর্তপূরণ সাপেক্ষে ন্যায় ও সমতার ভিত্তিতে সরকারি সহায়তা পাবে। নীতিমালা পরিপন্থী তথ্য প্রকাশ এবং দেশের বিদ্যমান আইন লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে পেলে সংশ্লিষ্ট অনলাইন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেবে কমিশন। স্বপ্রণোদিতভাবেও তারা এ কাজ করতে পারবে। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করবে সরকারকে।

তবে ১৯৭৩ সালের ছাপাখানা আইন অনুযায়ী যেসব সংবাদপত্র প্রকাশিত হয় সেগুলোর অনলাইন ভার্সন থাকলে নিবন্ধন লাগবে না। পত্রিকা প্রকাশককে পত্রিকার অনলাইন ভার্সন সম্পর্কে কমিশনকে অবহিত করতে হবে। তবে পত্রিকাগুলো অনলাইনে প্রতিদিনের নিউজ আপডেট করলে নিবন্ধন নিতে হবে বলে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। পত্রিকা, টিভি ও রেডিওর অনলাইন ভার্সনের নিবন্ধনের ক্ষেত্রে কোনো তদন্ত হবে না। শুধু অনুমোদনের কপিসহ আবেদন করলে নিবন্ধন দেওয়া হবে।

নীতিমালার তথ্য-উপাত্ত প্রচার, প্রকাশ ও সম্প্রচার সংক্রান্ত বিষয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ করার কথা বলা হয়েছে নীতিমালায়। সব ধর্মের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই সংবাদ পরিবেশন করার কথাও উল্লেখ রয়েছে। অনলাইন গণমাধ্যমে প্রচারিত, প্রকাশিত বা সম্প্রচারে কোনো প্রকার অসঙ্গতিপূর্ণ, বিভ্রান্তিমূলক ও অসত্য তথ্য-উপাত্ত দেওয়া যাবে না। সব তথ্য-উপাত্তে উভয়পক্ষের যুক্তি যথাযথভাবে উপস্থাপনের সুযোগ থাকতে হবে।

তথ্য মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, নীতিমালা কার্যকর হওয়ার পর মূলধারার নিউজপোর্টালগুলোকে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। তাই নতুন করে কোনো অনলাইন গণমাধ্যম চালু করতে হলে তাকে অবশ্যই নিবন্ধন নেওয়ার পর কার্যক্রম শুরু করতে হবে। নিবন্ধনের আগে কার্যক্রম চালু করার কোনো সুযোগ নেই। কারণ কেউ যেমন আবেদন করেই পত্রিকা প্রকাশ বা টিভি চ্যানেল সম্প্রচার শুরু করতে পারে না, তেমনি আবেদন করেই নিউজপোর্টাল চালু করা নীতিমালা পরিপন্থি।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার গণমাধ্যমবান্ধব সরকার। বর্তমান সরকার আমলেই অনলাইন গণমাধ্যম বিকশিত হয়েছে। তবে অনলাইন নিউজপোর্টালের নামে অপেশাদার কিছু লোকজন সাংবাদিকতার নামে অপসাংবিদকতা করছে এটা বন্ধ করতে হবে। তাই নিবন্ধনবিহীন গণমাধ্যমের বিষয়ে আদালত যে আদেশ দিয়েছে তা বাস্তবায়ন হওয়া দরকার। একই সঙ্গে যেসব মূলধারার নিউজপোর্টাল এখনও নিবন্ধন পায়নি তাদের দ্রুত নিবন্ধন দেওয়া উচিত।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, অনলাইন গণমাধ্যম নিবন্ধন একটি চলমান প্রক্রিয়া। অনলাইনগুলোর আবেদনের পর যাচাই-বাছাই করার জন্য আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাই। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এগুলো তদন্তকারী সংস্থাকে দেয়। সেটি শেষ করে না আসা পর্যন্ত আমরা দিতে পারি না। এ কারণে অনেক নিবন্ধন দিতে একটু সময় লাগছে।

মন্ত্রী বলেন, এখন যেগুলো নিবন্ধনপ্রাপ্ত, সেগুলো ছাড়া আর কোনো অনলাইন ভবিষ্যতে চালু হবে না- এমন নিয়ম তো নেই। আজকে যেসব পত্রিকা আছে, সেগুলো ছাড়া ভবিষ্যতে আর কোনো পত্রিকা বের হবে না, তেমন নিয়মও নেই। তাই চলমান যেসব ভালোমানের অনলাইন পোর্টাল এখনও নিবন্ধিত হয়নি তবে আবেদন জমা দিয়েছে তাদের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, যেসব অনলাইন সত্যিকার অর্থে গণমাধ্যম হিসেবে কাজ করে না, নিজস্ব বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করে এবং ব্যাঙের ছাতার মতো এত অনলাইন এলে দেশে প্রয়োজন নেই। যার যেমন ইচ্ছে একটি অনলাইন খুলে বসবে এবং সেটি নিয়ে যেমন ইচ্ছে তেমন সংবাদ পরিবেশন করবে, মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করবে, গুজব রটানোর কাজে ব্যস্ত হবে, অন্যের চরিত্র হনন করবে, ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হবে, কোনো ব্যবসায়িক স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য সেখানে লেখালেখি হবে, এটি কখনও উচিত নয়। এ ধরনের অনলাইন বন্ধের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।